নির্দেশিকা
বাফারব্লোট কী?
বাফারব্লোটে নেটওয়ার্ক প্যাকেট অতিরিক্ত দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করে। ফাঁকা ও ব্যস্ত সংযোগের লেটেন্সি তুলনা করুন এবং পরিবর্তনের পরে গতিও মাপুন।
বাফারব্লোট হলো প্যাকেটের সারি অতিরিক্ত দীর্ঘ হয়ে থাকার কারণে অপেক্ষার সময় বেড়ে যাওয়া। অল্প সময়ের জন্য বাড়তি ডেটা সামলাতে বাফার স্বাভাবিক ও উপকারী। কিন্তু বড় ডাউনলোড বা আপলোডের সময় কল বা গেমে দেরি বাড়লে দীর্ঘ সারি একটি সম্ভাব্য কারণ। সারি রাউটার, মডেম, নেটওয়ার্কের অন্য অংশ বা ব্যবহারকারীর ডিভাইসে হতে পারে। ব্যস্ত সংযোগে পিং বাড়া দেখেই নির্দিষ্ট কোনো যন্ত্রকে দায়ী করা যায় না।
ফাঁকা ও ব্যস্ত সংযোগে একই পরীক্ষা করুন
- একই ডিভাইস ও একই পরীক্ষার গন্তব্য রাখুন। সম্ভব হলে Ethernet ব্যবহার করুন। নিজের ব্যাকআপ ও বড় ট্রান্সফার বন্ধ করে অতিরিক্ত ট্র্যাফিক ছাড়া পিং বা লেটেন্সি লিখে রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ কলের সময় পরীক্ষার জন্য সংযোগ ব্যস্ত করবেন না।
- প্রথমে ডাউনলোড, পরে আলাদাভাবে আপলোড চালান। ফাঁকা ও ব্যস্ত অবস্থার লেটেন্সি দেখায় এমন পরীক্ষা ব্যবহার করুন, অথবা নিয়ন্ত্রিত ট্রান্সফারের সময় পিংয়ের উত্তর দেয় এমন একই গন্তব্যে বারবার পিং করুন। দুই দিকের ফল আলাদা রাখুন।
- ট্রান্সফার বন্ধ করলে লেটেন্সি আগের স্তরে ফেরে কি না দেখুন। একই গন্তব্য ও সেটিংয়ে পরীক্ষা পুনরাবৃত্তি করুন। গতি, লেটেন্সির ওঠানামা এবং দেখা গেলে প্যাকেট হারানোর তথ্যও রাখুন।
- উদাহরণস্বরূপ 12 ms থেকে 150 ms হলে অতিরিক্ত দেরি 138 ms। এটি হিসাবের উদাহরণ, সব সংযোগের জন্য ত্রুটির সীমা নয়। একটি সর্বোচ্চ পিং বা পিংয়ের উত্তর না পাওয়া বাফারব্লোটের প্রমাণ নয়।
ফলাফলের সীমা বুঝুন
লোড দিলে বারবার দেরি বাড়া এবং লোড সরালে কমা সারি পরীক্ষা করার কারণ। Wi-Fi-তে প্রতিযোগিতা, ডিভাইসের প্রসেসর, পরীক্ষার সার্ভার ও নেটওয়ার্কের পথও ফল বদলাতে পারে। Ethernet ব্যবহার করলে স্থানীয় Wi-Fi-এর প্রভাব বাদ যায়, কিন্তু রাউটার, মডেম বা সেবাদাতার মধ্যে দায়ী অংশ নির্ধারিত হয় না। কিছু স্পিড টেস্ট ব্যস্ত সংযোগের লেটেন্সি সরাসরি মাপে। তাই সব স্পিড টেস্ট অকার্যকর বলা ঠিক নয়; পদ্ধতি ও গন্তব্য আলাদা হলে ফলও আলাদা হতে পারে।
নিজের ট্র্যাফিক ও বর্তমান রাউটার দিয়ে শুরু করুন
- বড় ব্যাকআপ ও ট্রান্সফার কল বা গেমের সময়ের বাইরে রাখুন। অ্যাপে গতি সীমা থাকলে অন্য ট্র্যাফিকের জন্য কিছু ক্ষমতা রেখে ফল তুলনা করুন।
- দেরিতে সংবেদনশীল ডিভাইস Ethernet দিয়ে পরীক্ষা করুন। Wi-Fi কভারেজের সমস্যা আলাদা ঠিক করুন; কেবল লাগালেই ইন্টারনেট সংযোগের সারি নিয়ন্ত্রণ হয় না।
- রাউটারের সঠিক মডেল ও বর্তমান ফার্মওয়্যারের সরকারি নির্দেশিকায় SQM বা সমতুল্য সুবিধা খুঁজুন। নতুন রাউটার কেনার আগে আসল সমর্থন ও মাপা সীমাবদ্ধতা দেখুন।
- সমর্থিত সারি ব্যবস্থাপনা বদলানোর আগে আগের সেটিং ও মাপ সংরক্ষণ করুন। নির্মাতার নির্দেশিকা মানুন। কোনো অ্যাপকে অগ্রাধিকার দিলেই সক্রিয় সারি ব্যবস্থাপনা হয়েছে বলা যায় না।
SQM ট্র্যাফিকের হার নিয়ন্ত্রণ, আলাদা প্রবাহের সময়সূচি এবং সক্রিয় সারি ব্যবস্থাপনা একত্র করতে পারে। FQ-CoDel ও CAKE সমর্থিত ব্যবস্থার উদাহরণ, সব রাউটারের বৈশিষ্ট্য নয়। স্থিতিশীল উপলব্ধ ক্ষমতার কিছু নিচে সীমা রাখলে অনিয়ন্ত্রিত সারি কমতে পারে, তবে সর্বোচ্চ গতিও কমতে পারে। সঠিক সীমা ডিভাইস ও সংযোগের ওপর নির্ভর করে; সবার জন্য একটি শতাংশ ঠিক নয়। প্রসেসরের সীমা এবং মোবাইল সংযোগের পরিবর্তনশীল ক্ষমতাও দেখুন। একক মিলিয়ে নিন: 20 Mbps হলো 20000 kbit/s; kbit/s লেখা ঘরে 20 বসালে একই হার হয় না।
পরিবর্তনের আগে ও পরে একইভাবে যাচাই করুন
- একবারে একটি সেটিং বদলান। সঠিক নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস, ডাউনলোড ও আপলোডের দিক এবং গতির একক যাচাই করুন। একই ডিভাইস ও গন্তব্যে ফাঁকা এবং ব্যস্ত অবস্থার লেটেন্সি আবার মাপুন।
- পিংয়ের পাশাপাশি ট্রান্সফারের গতি তুলনা করুন। দেরি কমাতে যতটা গতি ছাড়ছেন তা আপনার কাজের জন্য গ্রহণযোগ্য কি না দেখুন।
- নিজের কল বা গেমও পরীক্ষা করুন। পরীক্ষায় ভালো গ্রেড সব অ্যাপে উন্নতির নিশ্চয়তা নয় এবং সম্পর্কহীন ত্রুটি ঠিক করে না।
- আগের ও পরের ফল রাখুন। অবস্থা খারাপ হলে আগের সমর্থিত সেটিং ফিরিয়ে আনুন। সেবাদাতা বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাউটারে পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলুন।
অতিরিক্ত ট্র্যাফিক ছাড়াও লেটেন্সি বেশি থাকলে বা শুধু একটি সেবায় সমস্যা হলে আলাদা অনুসন্ধান দরকার। সহায়তা চাইলে সময়, পরীক্ষার গন্তব্য, Ethernet বা Wi-Fi, লোডের দিক, রাউটার মডেল এবং আগে-পরের ফল দিন। শুধু একটি গ্রেড দেখে হার্ডওয়্যার কিনবেন না; দরকারি সুবিধা বা মাপা সীমাবদ্ধতা কেনার ভিত্তি হওয়া উচিত।